হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায় - দুর্বল হার্ট সবল করার উপায়
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন পোস্ট রয়েছে ক্লিক করুনহার্ট ভালো আছে বুঝার উপায় সম্পর্কে জানতে চান তাহলে আপনাকে বলব আপনি একদম সঠিক
আর্টিকেলটি ওপেন করেছেন কেননা এই আর্টিকেলে হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায় সম্পর্কে
বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
এছাড়াও দুর্বল হার্ট সবল করার উপায় সম্পর্কেও এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা
করা হয়েছে। তাই আপনি যদি আপনার হার্ট সুস্থ সবল আছে কিনা তা সম্পর্কে জানতে চান
তাহলে এই আর্টিকেলে দেওয়া কিছু লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিন। যার মাধ্যমে আপনি খুব
সহজেই আপনার হার্টের অবস্থান জানতে পারবেন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায় - দুর্বল হার্ট সবল করার উপায়
.
হার্ট ভালো আছে বুঝার উপায়
বর্তমান সময়ে হৃদ রোগের আক্রান্ত দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। আগে শুধু বয়স্কদের
হার্টের সমস্যা দেখা দিত কিন্তু বর্তমান সময়ে কম বয়সীদেরও হার্টের সমস্যা দেখা
দিচ্ছে এবং অকালেই মৃত্যুবরণ করছে অনেকেই। তাই আপনার হার্ট সুস্থ সবল আছে কিনা তা
জানা অতি জরুরী নইলে হতে পারে ভয়ংকর ধরনের বিপদ। তাহলে চলুন আপনার হার্ট সুস্থ
সবল আছে কি নেই চলুন জেনে নেওয়া যাক।
আমেরিকা হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত থেকে এই তথ্য জানা যায় যে কোন
ব্যক্তি এক পায়ে কমপক্ষে ২৫ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে বুঝবেন সে ব্যক্তির
হার্ট স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভালো আছে।
আমেরিকায় এই গবেষণায় ৫৪৬ জন পুরুষ এবং ৮৪১ জন নারী সংগ্রহ করে তাদের উপর গবেষণা
করেছেন। এবং সে সকল ব্যক্তির গড় বয়স ছিল ৬৭ থেকে ৬৮ বছর। এবং তারা গবেষণায়
অংশগ্রহণের সময় তাদের চোখ খোলা অবস্থায় ছিল এবং এক পায়ে দাঁড়িয়ে এক পা উঁচু
করে দাঁড়িয়ে থাকার সর্বোচ্চ সময় ছিল ৬০ সেকেন্ড।
আর এই পরীক্ষা করার ফলে বোঝা যায় যে এই পরীক্ষা আসলেই কার্যকারী কারণ এই গবেষণা
করার সময় যে সকল ব্যক্তি তাদের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারেননি তাদের দেখা গিয়েছে
বেশিরভাগই হার্ট অ্যাটাক ও স্টকের সমস্যা বেশি ছিল।
এই গবেষণার প্রধান লেখক ও কিয়োটো ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েট স্কুল অফ মেডিসিন
সেন্টার অফ জেনোমিক মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ইউসুহারু এই বিষয়ে জানান যে এক
পায়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা।
ইউসুহারু আরো জানান যে ব্যক্তি এক পায়ে দাঁড়াতে পারে না তাদের মধ্যে বেশিরভাগই
মস্তিষ্কের রোগ মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেশি। এবং তাদেরও বেশিরভাগই হার্ট
অ্যাটাক ও স্টকের ঝুঁকি আছে কিনা তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় এই পরীক্ষাটি
করার ফলে।
তাই আপনারা যদি এই পরীক্ষাটি সফলভাবে করতে পারেন তাহলে বুঝতে পারবেন আপনাদের
হার্টের কোন সমস্যা নেই। এবং আপনি যদি দেখেন কোনভাবেই আপনি এই পরীক্ষাটি সফলভাবে
করতে পারছেন না তাহলে বিষয়টা অস্বাভাবিক বলে বিবেচিত হবে। এবং সেই মুহূর্তে
আপনার করণীয় হলো আপনার হার্টের পরীক্ষা করা যাতে করে আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে থাকতে
পারেন, অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।
দুর্বল হার্ট সবল করার উপায়
প্রত্যেকটি মানুষের জন্য হার্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ আর এই অঙ্গের কোনরকম
ত্রুটি দেখা দিলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় এবং কি হার্ট অ্যাটাক
করেও মানুষ মারা যায়। তাই আমাদেরকে অবশ্যই হার্টের সুস্থতা রাখার চেষ্টা করতে
হবে। তাই চলুন কিভাবে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে দুর্বল হার্ট সবল করা যায় চলুন
জেনে নেওয়া যাক।
দুর্বল হার্ট সবল করার উপায় নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
দুর্বল হার্ট সবল করার জন্য আপনাকে নিম্নে দেওয়া কিছু টিপস অবলম্বন করতে হবে
তবেই আপনি দুর্বল হার্টকে সবল করতে পারবেন।
- নিয়মিত ব্যায়াম করাঃ দুর্বল হার্টকে সবল করার জন্য আপনাকে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ থেকে ২০০ মিনিট অন্তত ব্যায়ামের সঙ্গে জড়িত থাকতে হবে। যেমন দ্রুত হাঁটাচলা করা, জগিং করা, সাইকেল চালানো, এবং কি খাল বিল পুকুর এবং কি সুইমিং পুলেও সাঁতারের মতো ব্যায়াম করতে পারেন। এছাড়াও হার্টের পেশি শক্তিশালী করার জন্য প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে দুই দিন শক্তি প্রশিক্ষণ ব্যায়ামের সঙ্গে জড়িত থাকুন।
- মানসিক চাপ কমাতে হবেঃ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হার্টের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে ফেলে। তাই আমাদের মানসিক চাপ কমাতে হবে। আর সেই জন্য মানসিক চাপ কমানোর কৌশল অনুসরণ করতে হবে যেমন; যোগ ব্যায়াম, ধ্যান, গভীর নিঃশ্বাস, এবং কি এমন কিছু শখ যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবেঃ উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদপিন্ডে চাপের সৃষ্টি করে যার ফলে হৃদ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন এবং একটি স্বাস্থ্যকর পরিসরের মধ্যে চলে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রধান কারীদের সাথে পরামর্শ করুন এবং মেনে চলুন।
- কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবেঃ উচ্চ মাত্রায় এল ডি এল কোলেস্টরেল হলো (খারাপ কোলেস্টেরল) হার্টে ধমনীতে প্লাগ তৈরি করতে পারে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই খাদ্য, ব্যায়াম অথবা ঔষধের মাধ্যমেও সুস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখুন।
- ধূমপান ত্যাগ করতে হবেঃ ধূমপান হৃদপিণ্ড ও রক্তনালীর ক্ষতি করে যার ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি বাড়ায়। তাই ধূমপান ত্যাগ করুন।
হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবার
কিছু কিছু মুখ রুচি জিনিস রয়েছে যেগুলো খেতে খুবই সুস্বাদু লেগে থাকে। তবে
সুস্বাদু কর খাবারগুলি আমাদের হার্টের জন্য ভীষণ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই
এই স্টেপে এমন কিছু খাবার সম্পর্কে বলব যা হার্টের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাহলে চলুন
হার্টের জন্য ক্ষতিকর খাবার গুলো জেনে নেওয়া যাক।
- ভাজা-পোড়া ও অতিরিক্ত তেল যুক্ত খাবার হার্টের জন্য ক্ষতিকরঃ অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া ও তেল যুক্ত খাবার সেবন করলে ফ্যাট বৃদ্ধি হয় যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
- হাড়ের মজ্জা মগজ ও কলিজা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারেঃ হাড়ের মজ্জা মগজ ও কলিজা সেবন করলে উচ্চ পরিমাণে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই হৃদরোগীরা এগুলো খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।
- চিংড়ি মাছ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারেঃ চিংড়ি মাছের মাংসে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল রয়েছে যা হৃদরোগীদের ক্ষতিকর হতে পারে। তাই হৃদরোগীরা চিংড়ি মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।
- ডিমের কুসুম হৃদরোগীদের জন্য ক্ষতিকরঃ ডিমের কুসুমে উচ্চ পরিমাণে কোলেস্টেরল রয়েছে যা হৃদরোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ মতো খেতে পারেন।
অবশ্যই যে সকল খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে অবশ্যই হৃদরোগীরা এগুলো খাবার
খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করবেন।
কি খেলে হার্টের রোগ ভালো হয়
হার্ট ভালো রাখতে চাইলে আপনাকে পুষ্টিকর ভেজিটেবল বা শাকসবজি খেতে হবে। এবং
ভাজা-পোড়া খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এবং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কিছুটা
হলেও ভেজিটেবল বা শাকসবজি রাখতে হবে। যেমন; পালং শাক, লাল শাক, বৈঠা শাক, লাউ
শাক, সবুজ শাক, ইত্যাদি সহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর শাকসবজি খেতে পারেন এতে করে
ভিটামিন খনিজ ও এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও সালাত হিসাবে বা
রান্না করে টমেটো খেতে পারেন এতে করে হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।
হার্ট বিট নরমাল কত
অনেকেই হার্টবিট নরমাল কত তা জানেন না। তাই আপনাদের জন্য আজকের এই স্টেপে নরমাল
হার্টবিট কত? তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাহলে চলুন নরমাল
হার্টবিট বা স্বাভাবিক হার্টবিট কত থাকা উচিত চলুন জেনে নেওয়া যাক।
সাধারণত একটি সুস্থ মানুষের নরমাল হার্টবিট থাকা উচিত ৬০ থেকে ১০০ এর মধ্যে এর কম
বেশি যদি হয় তাহলে সেটা স্বাভাবিক হার্টবিট নয়। হার্টবিট ৬০ এর কম হলে স্লো বা
কম বলা হয় এবং ১০০ বেশি হলে বলা হয় হার্টবিট অনেক ফাস্ট হার্টবিট অনেক বেশি।
আশা করি বুঝতে পেরেছেন নরমাল হার্টবিট সাধারণ নরমাল মানুষের জন্য কতটা থাকা উচিত।
লেখক এর মন্তব্য
প্রিয় পাঠক, আশা করি এই আর্টিকেল থেকে হার্ট ভালো আছে বোঝার উপায় ও দুর্বল
হার্ট সবল করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন, এবং উপকৃত হয়েছেন।
এরপরও যদি আপনাদের কোন মতামত বা জিজ্ঞাসা থেকে থাকে তাহলে এই আর্টিকেলের নিচে
দেওয়া কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করে আপনার মন্তব্য প্রকাশ করবেন।
আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা যদি কিছুটা হলেও উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই
আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধবদের কাছে এই আর্টিকেলটি শেয়ার দিয়ে পৌছে দিবেন যাতে করে
তারাও উপকৃত হতে পারে। এত দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের এই আর্টিকেলটি ধৈর্য সহকারে
পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য "ধন্যবাদ"।
ইমরান এ আই এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url