লিভার পরিষ্কার করার ঘরোয়া উপায়
সুস্থভাবে জীবন যাপন করার জন্য লিভার আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে
একটি। যা সুস্থ স্বাভাবিক থাকলে খাবার হজম থেকে শুরু করে টক্সিক দূর করে ও
বিশুদ্ধভাবে রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। আমাদের জীবনযাত্রায়, অপ্রয়োজনীয়
খাদ্যঅভ্যাসে ভরপুর। যার ফলে আমাদের লিভারের উপর প্রচুর পরিমাণে চাপ পড়ে, যার
ফলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই আমাদের লিভার পরিষ্কার করার ঘরোয়া উপায়
সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত জানা জরুরী।
![]() |
লিভার পরিষ্কার করার ১০০% কার্যকারী ঘরোয়া উপায় |
যেগুলো খাবার আমরা যদি সঠিক পদ্ধতিতে গ্রহণ করতে পারি তাহলে খুব সহজেই আমাদের
লিভার মারাত্মক ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকতে পারে। তাই এমন কিছু খাবারের টিপস আপনাদের
জানাবো যা খেয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে আপনারা খুব সহজেই লিভার সুস্থ স্বাভাবিক রাখতে
পারবেন। তাই চলুন লিভার পরিষ্কার করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে
নেওয়া যাক।
.
ভূমিকা
যেগুলো খাবার সঠিক নিয়মে সেবন করলে লিভার সুস্থ থাকবে। তা হলো; পানি,
স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, এই সকল ঘরোয়া পদ্ধতিতে লিভার সুস্থ রাখা
সম্ভব। রসুন, বিট, লেবু, সবুজ চা ইত্যাদি সহ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান লিভার
পরিষ্কার রেখে লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে তাহলে চলুন যেগুলো খাবার সঠিকভাবে
খেয়ে লিভার সুস্থ রাখা যায় চলুন জেনে নেওয়া যাক।
লিভার পরিষ্কার করার ঘরোয়া উপায়
প্রিয় পাঠক, একবার চিন্তা ভাবনা করুন তো, একটা যন্ত্র আমাদের ২৪ ঘন্টা সঠিক ভাবে
সার্ভিস দিচ্ছে, কিন্তু আমরা তার কতটা খোঁজ খবর রাখছি! আমরা তেমন খোঁজখবর রাখছি
না তবে লিভার আমাদের গোপনে আমাদের শরীরের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। আর এই
লিভার যখন ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখনই সমস্যা দেখা দেয়। আমাদের
শরীরে হজমের সমস্যা, ক্লান্তি, দুর্বলতা সহ ভয়ঙ্কর রোগের দেখা দেয়। তাই আমরা
একটু সচেতনতা অবলম্বন করে খুব সহজেই আমরা আমাদের লিভারকে সুস্থ স্বাভাবিক
অবস্থায় রাখতে পারি। তাহলে চলুন আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক। আমরা কিভাবে
আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে পারি চলুন জেনে নেওয়া যাক।
- পর্যাপ্ত পানি, পানি এবং পানি পান করুনঃ আপনারা হয়তোবা ভাবছেন এতবার পানির কথা কেন বলা হলো? এই কারণেই পানির কথা এতবার বলা হলো কারণ লিভারকে সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। লিভারকে সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন অন্তত ৪ থেকে ৫ লিটার পানি পান করতে হবে। আপনি চাইলে শসা, লেবু, আদা, পুদিনা পাতা, দিয়ে সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান করতে পারেন। এইভাবে আপনি যদি প্রতিনিয়ত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে পারেন তাহলে আপনার লিভার সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসবে।
- দৈহিক পরিশ্রম বা এক্সারসাইজ না করলে লিভার অলস হয়ে পড়েঃ লিভারকে সুস্থ রাখতে চাইলে আপনাকে প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট এক্সারসাইজ, হাটাহাটি, দৌড়াদৌড়ি সহ পরিশ্রমের কাজ করতে হবে। তবেই লিভার সুস্থ থাকতে পারবে, লিভার চায় আপনি প্রতিনিয়ত ব্যায়াম এক্সারসাইজ এর সঙ্গে জড়িত থাকুন। আপনি যদি নিয়মিত এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম বা দৌড়াদৌড়ি হাটাহাটি পরিশ্রমের কাজ করেন। তাহলে আপনার লিভর সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবে।
- অ্যালকোহল লিভারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেঃ প্রতিনিয়ত আমরা যেগুলো খাবার খেতেই থাকি তাতে লিভার প্রায় সবসময় ব্যস্ততাই থাকে। তার ওপরে যদি আপনি অ্যালকোহল পান করেন তাহলে লিভার পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যার ফলে লিভারের কোষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাই আপনি যদি আপনার লিভারকে সুস্থ রাখতে চান? তাহলে এখনই অ্যালকোহল ত্যাগ করুন এবং লিভারকে সুস্থ রাখুন।
- ফাস্টফুড ত্যাগ করুন, এবং স্মার্টফুট সেবন করুনঃ ফাস্টফুডে অতিরিক্ত লবণ রয়েছে যা লিভারকে নষ্ট করতে যথেষ্ট। তাই এখনই ফাস্টফুড ট্যাগ করুন এবং স্মার্টফুড সেবন করুন যেমন; সিয়া সিড, ডিম ইত্যাদি সহ স্মার্টফুড সেবন করুন। কেননা স্মার্টফুডে রয়েছে গুড ফ্যাট যা লিভারকে সুস্থ সবল রাখতে ভীষণ কার্যকারিতা রাখে।
- অতিরিক্ত মিষ্টি ত্যাগ করুনঃ অতিরিক্ত সুগার শুধু ওজন বৃদ্ধি করে না, এটি অতিরিক্ত লিভারে চাপ সৃষ্টি করে। একটি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ দিনে শুধু ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম চিনি খেতে পারবে এর বেশি খেলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আপনাকে যদি মিষ্টি খেতেই হয় তাহলে প্রাকৃতিক কিছু মিষ্টি ফলের রস সেবন করুন। অথবা ১ থেকে ২ চামচ খাঁটি মধু সেবন করে আপনার মিষ্টির প্রয়োজনীয়তা পূরণ করুন।
- কিছু খাবারে রয়েছে ঔষধের গুনাগুনঃ এমন কিছু খাবার রয়েছে যা সুস্বাদুই নয় বরং লিভারের সবচাইতে প্রিয় খাবার। যেমন; গাজর, সবুজ চা, রসুন, বিট, হলুদ, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি সহ কিছু খাবার লিভারের খুবই পছন্দনীয়। তাই আপনি যদি আপনার লিভারকে ভালোবেসে থাকেন। তাহলে প্রাকৃতিক শাকসবজি, ফলমূল নিয়মিত সেবন করার চেষ্টা করুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি যা লিভারকে সুস্থ রাখেঃ লিভার রাত্রেই তার থলি পুরোপুরি ক্লিন করে, তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম আমাদের প্রয়োজন। ঘুম মানসিক প্রশান্তির জন্য ঘুম আমাদের অত্যন্ত অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে মানসিক টেনশন লিভারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তাই অবশ্যই অতিরিক্ত স্টেস বা মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
পরিশেষে এটাই বলব আপনাকে যে, মানুষের প্রতিটি অঙ্গই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
কোনোটি ছাড়া এই দেহ কখনোই চলবে না, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো একটি
লিভার। লিভার যদি সুস্থ ভাবে কাজ করে তাহলে আপনার মন মানসিক প্রশান্তি
সবকিছুই ভালো থাকবে। সারা জীবন নিরব যে বস্তুটি আমাদের শরীরের জন্য কাজ করে
যাচ্ছে তাকে অবহেলা নয়। বরং তাকে ভালোবেসে যত্ন করে তার প্রতি যত্নশীল হয়ে
আমাদের কিছু খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন পড়লেই লিভার হয়ে উঠবে আরো দ্বিগুণ
শক্তিশালী।
কি ফল খেলে লিভার ভালো থাকে
প্রিয় পাঠক, লিভারের কাজ শুধুমাত্র শরীর থেকে টক্সিন বের করাই নয়, এটি হজম,
বিপাকক্রিয়া, সহ শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে লিভার যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে।
শরীরের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইলে, লিভারকে হাইটেক রাখা প্রয়োজন। তাই আপনি
যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান না করেন, তবে আপনার লিভার একদম ক্লান্ত হয়ে
পড়বে। যার ফলে আস্তে আস্তে আপনার ভিতর থেকে অসুস্থতা প্রকাশ পাবে।
তাই পর্যাপ্ত পানি আপনাকে আমাকে নিয়মিত পান করতে হবে তার পাশাপাশি কিছু
হাইড্রেটিং ফল রাখতে হবে। যাতে করে শরীরে কোন পানির ঘাটতি না দেখা দেয়। তাই নিচে
এমন কিছু ফলের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে যেগুলো ফল খেলে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি
পান না করেও পানির ঘাটতি পূরণ করতে পারি। তাহলে চলুন পর্যাপ্ত পানি সম্পন্ন কিছু
ফল সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।
- 🍉তরমুজঃ তরমুজ প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা একটি ফল। যাতে প্রচুর পরিমাণে পানির উৎস রয়েছে। তরমুজে, এত বেশি পরিমাণে পানি রয়েছে যে শুধুমাত্র শরীরের জন্যই নয় বরং লিভারকে সতেজ করে তুলতে সাহায্য করে। গরমে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি যেমন মানুষের মনকে প্রশান্তি এনে দেয়। ঠিক তেমনি এক টুকরো তরমুজ খেলে লিভার প্রশান্তি পায়। পাশাপাশি তরমুজ খেলে নাইট্রিক অক্সাইড বাড়াতে সাহায্য করে, যা লিভারের রক্ত প্রবাহ সচল রাখতে সাহায্য করে।
- 🍎ডালিমঃ ডালিমের রঙে যেন বলে দেয় যে, ডালিমের কতটা উপকারিতা রয়েছে। ডালিমে রয়েছে, পুনিক্যালাজিন এবং এলাজিক এসিড, যা লিভারকে ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষিত রাখে। ডালিম শুধু রক্তই পরিষ্কার করেনা বরং শরীরে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দেওয়ার রাস্তা পরিষ্কার করে দেয়। ডালিম এই ফলটি খেলে লিভার আরও চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
- 🍓ছোট ছোট ফলঃ স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি, ব্লুবেরি ইত্যাদি। এগুলো ছোট ছোট ফল শরীরের পুষ্টি এবং লিভারের জন্য ভীষণ উপকারী। এই ফলগুলোতে রয়েছে প্রোঅ্যান্থসায়ানিডিন, যা লিভারের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আপনার শরীরের রক্ত প্রবাহ যত উন্নত ঘটবে, ঠিক ততটুকু লিভার প্রানবন্ত থাকবে।
- 🍇আঙ্গুরঃ লাল আঙ্গুর, সবুজ আঙ্গুর, বা কালো আঙ্গুর যাই হোক সকল আঙ্গুর লিভারের জন্য ভীষণ উপকারী। আঙ্গুরে রয়েছে, ফ্ল্যাভোনইয়েডস, যা লিভারের কার্যকারিতা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে আরো মসৃণ ভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। তাই লিভারকে সুস্থ রাখার জন্য আপনাদেরহ খাদ্য তালিকায় আঙ্গুর রাখুন।
- 🍠বিটরুটঃ অনেকেই বিটরুট খেতে খুব একটা পছন্দ করে না, তবে লিভার বিটরুট অনেক পছন্দ করে। কেননা বিটরুটে রয়েছে, এন্টিঅক্সিডেন্ট ও নাইট্রেট উপাদান রয়েছে যা লিভারকে পরিষ্কার করে ও লিভারের কোষকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
- 🍏অ্যাপেলঃ অ্যাপেল আমাদের লিভারের জন্য ভীষণ উপকারী কেননা অ্যাপেলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার যা লিভারের বিষাক্ত উপাদান দূর করতে ভীষণ কার্যকারিতা রাখে অ্যাপেল।
- 🍋লেবুঃ লেবু আমাদের লিভারের এনজাইম কার্যক্রম বাড়াতে সাহায্য করে, কেননা লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি। আর আমরা জানি ভিটামিন সি লিভারের এনজাইম কার্যক্রম ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই আপনি লেবু জাতীয় যেমন মালটা, কমলা খেতে পারেন।
লিভার ভালো রাখার ব্যায়াম
লিভার এমন একটি অঙ্গ যা প্রায় সব সময় ব্যস্ত থাকে। পাশাপাশি হাজার হাজার কাজ
করে থাকে। যেমন; হজমে সাহায্য করে থাকে, শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে, চর্বি
গলাতে সাহায্য করে, রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, এছাড়াও সংক্রমণ
প্রতিরোধ করে লিভার অন্তত ৫০০ টিরও বেশি।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আজকের সমাজে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের ফলে লিভারের উপর
মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ভারতের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভারত নন-অ্যালকোহলিক
ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD)-এর আক্রান্তের হার রয়েছে প্রায় ৩৩%, যা সারা
বিশ্বের গরের চাইতে অনেক বেশি। বিশেষ করে এই আক্রমণের ঝুঁকি মহিলাদের মধ্যে
অনেকটা বেশি মাত্রায় রয়েছে।
তাই আপনি যদি লিভারের এই আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে চান? তাহলে আপনাকে কিছু
শরীরচর্চা করতে হবে যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই লিভারকে ভালো রাখতে পারেন। এবং
বিভিন্ন আক্রমণ থেকে খুব সহজেই রক্ষা করতে পারেন। তাহলে চলুন কিছু ব্যায়াম বা
শরীর চর্চা করে আমরা খুব সহজেই লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে পারি চলুন জেনে নেওয়া
যাক।
নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীর চর্চার মাধ্যমে যেভাবে আপনি লিভারকে সুস্থ রাখতে
পারেনঃ---------?
- প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীর চর্চা করুনঃ প্রতিনিয়ত না হলেও হালকা শরীর চর্চা করুন। যেমন; হাঁটাহাঁটি, দৌড়াদৌড়ি, সাইকেল চালানো, ইত্যাদি সহ পরিশ্রমের কাজ অন্তত ৩০ মিনিট করুন।
- স্পিড ওয়ার্নিং প্রতিদিন করুনঃ অন্তত প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট দ্রুত দৌড়াদৌড়ি করলে চর্বি কমাতে সাহায্য করে, পাশাপাশি রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।
- সপ্তাহের কমপক্ষে ১ দিন প্রকৃতির মাঝে হাঁটুনঃ সপ্তাহে ১ দিন প্রকৃতির মাঝে হাঁটাহাঁটি করলে শরীর, মন, ভালো থাকেন। যার ফলে লিভার ভালো থাকতে সাহায্য করে।
লিভার রোগীর খাদ্য তালিকা
লিভার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। যার কোন প্রকার ত্রুটি দেখা দিলে শরীরে
বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই লিভারের ওপর যত্নশীল হওয়া আমাদের
প্রত্যেকেরই দায়িত্ব। তাই আমরা যদি সঠিক খাদ্যঅভ্যাস মেনে কিছু খাবার গ্রহণ করি
তাহলে আমরা খুব সহজেই আমাদের লিভারকে সুস্থ সবল রাখতে পারব। তাহলে চলুন লিভারকে
সুস্থ রাখার জন্য কিছু খাবার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
- কফিঃ শুধুমাত্র কফি মনকেই প্রশান্ত করে না। কফি লিভারের জন্য ভীষণ উপকারী। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, কফি মানব শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ লিভারকে সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো ভয়ংকর রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও কফি লিভারের জমে থাকা চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও প্রদাহ হ্রাস করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, কফি।
- গ্রিন টি বা সবুজ চাঃ গ্রিন টি লিভারের জন্য ভীষণ উপকারী। গ্রিন টিতে রয়েছে অক্সিডেটিভ উপাদান যা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে এবং লিভারের কার্যক্রম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, গ্রিন টি।
- ব্লুবেরিঃ ব্লুবেরিতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা লিভারের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- আঙ্গুরঃ আঙ্গুর ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল। যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এবং লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, আঙ্গুর।
- বাদামঃ বাদাম লিভারের জন্য ভীষণ উপকার। বাদাম লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করে এবং লিভারের সুস্থভাবে কার্যক্রম ক্ষমতা স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, বাদাম।
- চর্বিযুক্ত মাছঃ চর্বিযুক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। যা লিভারের প্রদাহ কমায় এবং কোষে জমে থাকা চর্বি দূর করে। যেগুলো মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড বেশি পরিমাণে রয়েছে তা হলো স্যালমন, ম্যাকেরেল, ও সারডিন। এগুলো মাছ লিভারের জন্য ভীষণ উপকারী
- সবুজ শাকঃ পালং শাক, কলাই শাক, এগুলো শাকে রয়েছে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা লিভারের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী।
- রসুনঃ রসুন লিভারের জন্য ভীষণ উপকারী। রসুনে রয়েছে সালফার যা লিভারের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া সক্রিয় করতে সাহায্য করে। যার ফলে রিলিভারের কার্যকারিতা ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- আখরোটঃ আখরোটে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। যা লিভারের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। এবং লিভারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা করতে সাহায্য করে, আখরোট।
লেখক এর মন্তব্য
প্রিয় পাঠক বৃন্দ, আশা করি এই আর্টিকেল থেকে লিভার পরিষ্কার করার ঘরোয়া উপায়
সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন, এবং উপকৃত হয়েছেন। এরপরও যদি আপনাদের কোন
মতামত বা জিজ্ঞাসা থেকে থাকে? তাহলে এই আর্টিকেলের নিচে দেওয়া কমেন্ট সেকশনে
কমেন্ট করে আপনার মন্তব্য প্রকাশ করবেন।
আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা যদি কিছুটা হলেও উপকৃত হয়ে থাকেন। তাহলে
অবশ্যই আমাদের এই ওয়েবসাইট রেগুলার ফলো করবেন। এবং আপনি আপনার
বন্ধু-বান্ধবদের কাছে শেয়ার দিয়ে পৌঁছে দেবেন ।
"ধন্যবাদ "
ইমরান এ আই এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url