১৫ দিনে ৫ কেজি ওজন কমানোর উপায়

আপনার পছন্দ হতে পারে এমন পোস্ট রয়েছে ক্লিক করুনপ্রিয় পাঠক, আপনি কি ১৫ দিনে ৫ কেজি ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আপনাকে কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই দ্রুত আপনার ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসতে পারবেন। 

১৫ দিনে ৫ কেজি ওজন কমানোর উপায়
১৫ দিনে ৫ কেজি ওজন কমানোর দুর্দান্ত টিপস

তাই আপনি যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে আমি আমার ওজন নিয়ন্ত্রণ করবো? আমার অতিরিক্ত ফ্যাট কমিয়ে স্বাভাবিক সুস্থ অবস্থায় জীবন যাপন করব। এই ধরনের আপনার যদি ইচ্ছা শক্তি থাকে তাহলে আপনার জন্য আজকের এই আর্টিকেলটি। কেননা এই আর্টিকেলে খুবই অল্প সময়ে শরীরের অতিরিক্ত ভ্যাট কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে খুব দ্রুত কিভাবে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে নেওয়া যায় চলুন জেনে নেওয়া যাক।
.

১৫ দিনে ৫ কেজি ওজন কমানোর উপায়

মাত্র ১৫ দিনে ৫ থেকে ৬ কেজি ওজন কমানো সম্ভব। তবে ওজন খুব দ্রুত কমানোর জন্য মূল যে বিষয় সেটি হল ব্যায়াম ও খাদ্য অভ্যাস। এই দুটি কাজ আপনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে করতে পারেন তাহলে খুব দ্রুতই আপনি ১৫ দিনের মধ্যেই ৫ থেকে ৬ কেজি ওজন কমাতে পারবেন। তাই আপনাকে নিয়মিত ব্যায়াম করার পাশাপাশি সঠিক পদ্ধতিতে খাবার গ্রহণ করলে আপনার ওজন তো কমবেই পাশাপাশি আপনার শরীর সঠিক ফিটনেস বজায় থাকবে।

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে প্রধান কাজ হল নিয়মিত এক্সেসাইজ বা ব্যায়াম করা। দেহের অতিরিক্ত বাড়তি ওজন কমানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই এমন কিছু খাবার আপনার ডায়েটে রাখতে হবে যা আপনার শরীর থেকে ক্ষতি কর টক্সিক পদার্থ বের করে ফেলে। তার সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে পরিমাণ মতো প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার সেবন করতে হবে।

✔খুব দ্রুত ওজন কমানোর জন্য কিছু ডায়েট চার্ট নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ

  1. ভোরের ডায়েট চার্টঃ  খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস আদার পানি পান করুন। আদার পানি শরীরের অতিরিক্ত চব্রি গলাতে সাহায্য করে। আদার পানি শরীরের অতিরিক্ত ওজন ও পেটের মেদ কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থা নিয়ে আসতে সাহায্য করে।
  2. সকাল ৭ঃ০০ টার মধ্যে নাস্তা সম্পন্ন করুনঃ  সকালের নাস্তা যত সকালে সম্ভব শেষ করুন। অবশ্যই সকালের নাস্তায় চিড়া রাখুন কেননা চিড়াতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা ওজন কমানোর জন্য দুর্দান্ত একটি ব্রেকফাস্ট। ওজন কমানো ছাড়াও ফাইবার অন্ত্রের জন্য দুর্দান্ত কার্যকারিতা রাখে। এছাড়া চিড়া খেলে দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা পায় না ফলে খুব সহজেই দীর্ঘ সময় খাবার না খেয়ে থাকা যায়। ফলে ওজন খুব দ্রুত কমতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে সঙ্গে ভরপুর প্রোটিন পাবার জন্য খাবারের ৫০ গ্রাম পানি এবং হলুদ দেওয়া দুধ খেতে হবে। প্রতিদিন এই রুটিন মেনে একগ্লাস করে দুধ পানি ও হলুদের মিশ্রণ সেবন করতে পারেন।
  3. দুপুর একটার মধ্যে দুপুরের খাবার সম্পন্ন করুনঃ  বাদামি চালের গরম ভাতের সঙ্গে দুপুরের লাঞ্চে মসুরের ডাল ও সঙ্গে সালাত রাখুন। বাদামি চাল ফাইবার সমৃদ্ধ তার সঙ্গে শসা রাখলে পেটের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে। 
  4. সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮ টার মধ্যে রাতের খাবার সম্পন্ন করুনঃ  খুব দ্রুত ওজন কমাতে চাইলে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮ টার মধ্যে রাতের খাবার সম্পন্ন করুন। অবশ্যই খাবারের তালিকায় স্যুপ রাখুন। স্যুপ অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং স্যুপ ওজন কমাতে খুব দ্রুত কাজ করে থাকে। আপনি রাতের খাবারে ভেজিটেবল স্যুপের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের স্যুপ রাখতে পারেন। যেমন; চিকেন স্যুপ, ক্লিয়ার স্যুপ ইত্যাদি ডায়েটের জন্য ভীষণ কার্যকারিতা রাখে। অন্যান্য স্যুপের চাইতে ভেজিটেবল অর্থাৎ শাকসবজির স্যুপ হজম শক্তি ঠিক রাখতে দুর্দান্ত কার্যকারিতা রাখে। আপনি চাইলে রাতে ঘুমানোর পূর্বে এক কাপ মসলাদার চা বা গ্রিনটি চা পান করতে পারেন। কেন না ঘুমানোর পূর্বে মসলা চা পান  করলে ওজন খুব দ্রুত কমতে সাহায্য করে।

৭ দিনে ১০ কেজি ওজন কমানোর উপায়

প্রথমত ৭ দিনে ১০ কেজি ওজন কমানোর চিন্তাভাবনা করাটাই এক ধরনের বোকামি। খুব দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অনেকেই নানা কৌশল অবলম্বন করে, যা শরীরের জন্য একদমই ক্ষতিকর। তাই আপনি যদি ৭ দিনের মধ্যে ১০ কেজি ওজন কমাতে চান? তাহলে আপনার শরীরে যেগুলো সমস্যা দেখা দিবে তা হলো; পেশীর ক্ষয়, পানিশূন্যতা, ও বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ওজন কমানোর জন্য প্রথম স্টেপ হওয়া উচিত! ধীরে ধীরে সঠিক উপায়ে ওজন কমানো।
তাই আপনি যদি সুস্বাস্থ্যকর ভাবে খুব দ্রুত ওজন কমাতে চান? তাহলে আপনাকে তিনটি মূল বিষয় আপনাকে মাথায় রাখতে হবে।

  • সঠিক খাদ্য অভ্যাস
  • শারীরিক পরিশ্রম
  • ও জীবনযাত্রার গুণগতমান পরিবর্তন
  1. সঠিক খাদ্যঅভ্যাসঃ প্রথমত খাবারের ভারসাম্য জেনে নিন। যে খাবারে কম পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট ও উচ্চ পরিমাণে প্রোটিনযুক্ত রয়েছে সেই খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। তার সঙ্গে তাজা ফল, টাটকা সবজি, প্রোটিন যুক্ত খাবার ও সুস্বাস্থ্যকর চর্বি নিয়মিত খেতে থাকুন এবং অতিরিক্ত চিনি ও ভাজাপোড়া খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  2. শরীরচর্চা বা শারীরিক পরিশ্রমঃ  শরীরচর্চা বা শারীরিক পরিশ্রম আপনার প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটাচলা করা বা ব্যায়াম করা বা পরিশ্রমিক কাজকর্ম করতে হবে। যার ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করবে। এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে যাতে করে শরীরে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
  3. সর্বোচ্চ গুরুত্ব হলো জীবনযাত্রার গুণগতমান পরিবর্তনঃ  ঘুম মানসিক শান্তি প্রদান করে ও শরীরকে সর্বোচ্চ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে। কারণ গভীর ঘুম শরীরের ভিতর পুনর্গঠনে সহায়তা করে থাকে। তাই নিয়মিত নিয়ম মেনে পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওজন কমানোর বিষয়টি একদমই দ্রুত সম্ভব নয়। এটি সঠিক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ওজন কমানোটাই সুস্বাস্থ্যকর হবে। তাই তাড়াহুড়া করে আপনার শরীর নষ্ট করবেন না, বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শে নিয়ে ধীরে ধীরে ওজন কমানো টাই সবচাইতে কার্যকরী ও দীর্ঘস্থায়ী উপায় হবে আপনার জন্য।

মেয়েদের দ্রুত ওজন কমানোর উপায়

অতিরিক্ত ওজন হলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। তবে আপনি যদি খুব দ্রুত ওজন কমাতে চান তাহলে আপনি  বিভিন্ন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন। তাই সঠিক পদ্ধতিতে সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে আপনাকে ওজন কমাতে হবে। তাড়াহুড়া করে দ্রুত ওজন কমানো মোটেও সুস্বাস্থ্যকর নয়, কেননা তাড়াহুড়া করে ওজন কমাতে চাইলে শরীরের বিভিন্ন ধরনের পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয় যেমন প্রোটিন, ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি অভাব শরীরে দেখা দেয়। ফলে পানি শূন্যতা, দূর্বলতা বা ক্লান্তি, চুল পড়া, ইমিউনো সিস্টেম দুর্বল হয়, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে তাই। সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে ওজন কমানোই সবচাইতে বুদ্ধিমানের কাজ। তাহলে চলুন সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে কিভাবে মেয়েরা ওজন কমাতে পারে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

✅ দ্রুত ওজন কমতে যেগুলো খাবার গ্রহণ করতে হবে তা নিমনে তুলে ধরা হলোঃ

  1. সঠিক খাদ্যঅভ্যাসঃ  সকালের নাস্তায় প্রোটিন যুক্ত খাবার গ্রহণ করুন। যেমন; ডিম, দই, দুধ ইত্যাদি। পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি, তাজা ফল, ও ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এবং চিনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  2. পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুনঃ  খাওয়ার পূর্বে পানি পান করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা যায়। পানি শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত খাবার গ্রহণের পূর্বে পানি পান করে তাদের ওজন ৪৫% থেকে ৫০% কমতে সাহায্য করে।
  3. নিয়মিত ব্যায়াম ও পরিশ্রমের কাজ করুনঃ  প্রতিদিন অন্তত ৪০ থেকে ৫০ মিনিট দৌড়াদৌড়ি, হাটাহাটি সহ পরিশ্রমের কাজ করুন।
  4. নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবেঃ  প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘন্টা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় যার ফলে ওজন বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান।
  5. মানসিক স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুনঃ  অতিরিক্ত মানসিক চাপ থাকলে কোর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, ফলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই অতিরিক্ত টেনশন ও মানুষের চাপ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন।

লেখক এর মন্তব্য

প্রিয় পাঠক বৃন্দ, আশা করি এই আর্টিকেল থেকে ১৫ দিনে ৫ কেজি ওজন কমানোর সঠিক উপায় কি তা জানতে পেরেছেন, এবং উপকৃত হয়েছেন। এরপরেও যদি আপনাদের কোন মতাম বা জিজ্ঞাসা থেকে থাকে তাহলে এই আর্টিকেলের নিচে দেওয়া কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করে আপনার মন্তব্য প্রকাশ করবেন।

আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা যদি কিছুটা হলেও উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আমাদের এই ওয়েবসাইট রেগুলার ফলো করবেন এবং আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধবদের কাছে শেয়ার দিয়ে পৌঁছে দিবেন, যাতে করে তারা তথ্যবহুল কন্টেন্ট পেয়ে উপকৃত হতে পারে "ধন্যবাদ "

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইমরান এ আই এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
\